হাকালুকির হাওরখাল বিলের মাছ লুটের অভিযোগ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জুড়ীতে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বড়লেখায় মাসব্যাপী কুরআন প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার বিতরণ  বড়লেখায় মশক নিধনে এমপির নেতৃত্বে সমন্বিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জুড়ীতে প্রবাসী সমাজসেবক মাহবুব হাসান সাচ্চুর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ওসমানীনগর আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনের  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ছাতকে ব্যবসার নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র প্রাণনাশের হুমকি : থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকটে দুর্ভোগ বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল আত্রাইয়ে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা কমলগঞ্জে বছরের প্রথম কালবৈশাখি ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড

হাকালুকির হাওরখাল বিলের মাছ লুটের অভিযোগ

  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

Manual4 Ad Code

মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকে ৬ বছর পার

এইবেলা, বড়লেখা প্রতিনিধি ::

Manual5 Ad Code

প্রায় ৬ বছর ধরে মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকিয়ে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বড়লেখার মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি হাকালুকির গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহাল থেকে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করছে বলে অভিযোগ করেছেন সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দিন। তার দাবী আদালতের রায়ে বৈধ ইজারাদার স্বত্ত্বেও ওয়াটার লর্ডদের কারণে তার সমিতি জলমহালটিতে নামতে পারছে না।

জানা গেছে, গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালটি ১৪২২ বাংলা হতে ১৪২৭ বাংলা পর্যন্ত লীজ বন্দোবস্ত নিতে ৪টি মৎস্যজীবি সমিতি আবেদন করে। ২০ একরের উর্ধ্বের জলমহাল ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক সর্বোচ্চ দরদাতাদের লীজ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ৬ বছর আগে অদৃশ্য ইশারায় ভূমি মন্ত্রণালয় সর্বনি¤œ দরদাতাকে সর্বোচ্চ দরদাতা বানিয়ে বড়লেখার পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয়ায় ঘটে বিপত্তি। সর্বনি¤œ দরদাতা পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয়ায় সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করে (মামলা নং-৮০৩৪/২০১৫)। ভোলারকান্দি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি আরেকটি রীট মামলা (নং-৮০৭৮/২০১৫) করে। মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন ৮০৩৪/১৫ ও ৮০৭৮/২০১৫ মামলা দু’টির বিচারে পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বেআইনী লীজ বাতিল করেন। রায়ের বিরুদ্ধে পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমিতি ‘লীভটু আপীল’ করে (নং-৩৬১৬/২০১৫)।

এ সংক্রান্ত মামলাগুলো একত্রিত করে আপীল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আদেশ প্রদান করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে পানকৌড়ি পুনরায় রিভিউ করে (মামলা নং-৪৩৫/২০১৬ ও ৪৩৬/২০১৬)। রিভিউ মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারনে সোনারবাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতি রিভিউর বিপক্ষে হাইকোর্টে কনডেম মামলা (নং-৪৪৪/২০১৭) করেন।

Manual4 Ad Code

মামলা চলমান অবস্থায় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ১৪২৪ বাংলা সন হতে ১৪২৯ বাংলা সন পর্যন্ত ইজারা বন্দোবস্তের আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে ১১ অক্টোবর উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গুটাউরা হাওড়খাল (বদ্ধ) জলমহাল মামলাভূক্ত থাকায় মাধবকুন্ড সমিতিকে ইজারা দেয়ার সুযোগ নেই মর্মে ভূমি মন্ত্রণালয়ে মতামত প্রেরণ করেন। কিন্তু মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমিতির অর্থের যোগানদাতা ফেঞ্চুগঞ্জের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি ভূমি মন্ত্রণালয়ের যোগসাজশে ১৪২৪ বাংলা সন হতে ১৪২৯ বাংলা সন পর্যন্ত ইজারা বন্দোবস্তের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি প্রেরণ করেন। তড়িঘড়ি করে ওই মৎস্যজীবি সমিতির অর্থের যোগানদাতা গত ১৪ অক্টোবর আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বেআইনিভাবে গুটাউরা হাওড়খাল (বদ্ধ) জলমহালের উপর সরকারের রাজস্বাদি পরিশোধ করেন।

মাধবকুন্ড সমবায় সমিতির ইজারার বিরুদ্ধে সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের হাইকোর্টের ১৫৬১/২০১৮ রীট মামলার রায়ে বলা হয় ভুমি মন্ত্রণালয়ের লীজ প্রদানে কোন আইনগত কার্যকারীতা নেই বিধায় মাধবকুন্ড সমবায় সমিতির লীজ বাতিল করা হয়। উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে মাধবকুন্ড সমিতি সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে ৯৬৩/২০১৯ ও ৯৬৬/২০১৯ নম্বরে দুটি মামলা করেন। উক্ত মামলায় জলমহালের উপর পক্ষগণকে নিজ নিজ অবস্থায় থাকার জন্য স্থিতাবস্থা জারী করা হয়। স্থিতাবস্থা জারীর পর মাধবকুন্ড সমবায় সমিতি আপীল বিভাগে লীভ টু আপীল দায়ের করেন (মামলা নং-৩৯০৪/২০১৯ ও ১৯/২০২০)।

গত ৯ সেপ্টেম্ববর ভুমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত ১ অধিশাখা হতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরিত পত্র সুত্রে জানা গেছে, ‘সোনারবাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি’ কর্তৃক মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত রীট পিটিশন নং-১৫৬১/২০১৮ মামলার আদেশের বিরুদ্ধে মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি কর্তৃক উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত সিভিল পিটিশন ফর ‘লীভটু আপীল’ নং-৩৯০৪/২০১৯ এবং সরকারের পক্ষে সিভিল পিটিশন ফর ‘লীভ টু আপীল’ নং-১৯/২০২০ মামলার আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসক সরকারী কৌসুলীর মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করেন। সরকারী কৌসুলী ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবরে মতামত পেশ করেন বিভিন্ন মামলা চলমান থাকাবস্থায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালের উপর ১৪২৭ বাংলার সরকারী ইজারামূল্য ও অন্যান্য করাদি আদায় করা যাবে না।

১৩ অক্টোবর ‘সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সম্পাদক সাহাব উদ্দিন বিজ্ঞ কৌসুলীর মতামতের কপি সংযুক্ত করে ১৪২৭ বাংলা সনের সরকারী ইজারা মূল্য ও অন্যান্য করাদি গ্রহণ না করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু এতগুলো নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ১৪ অক্টোবর গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালের উপর বেআইনীভাবে ১৪২৭ বাংলা সনের রাজস্ব করাদি পরিশোধ করে চালানের কপিগুলো জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরণ করেছেন।

Manual3 Ad Code

বড়লেখার সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমিতির সম্পাদক সাহাব উদ্দিন জানান, তার সমিতি জলমহালটির বৈধ ইজারাদার। উপজেলা জলমহাল কমিটি ও সরকারী কৌশলীর মতামত উপেক্ষা করে মামলা চলমান অবস্থায় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অর্থের যোগনদাতা নুরুল ইসলাম আদালত অবমাননা করে বেআইনীভাবে উক্ত জলমহালের ১৪২৭ বাংলা সনের রাজস্ব করাদি পরিশোধ করেছেন। প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকিয়ে গুটাউরা হাওড় খাল (বদ্ধ) জলমহাল থেকে প্রতিরাতে লাখ টাকার মাছ লুট করছেন। ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় তারা আদালতের পানে চেয়ে আছেন।

জেলা প্রশাসক মো. মীর নাহিদ আহসান জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল না দেখে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবেন না। অফিসে গিয়ে ফাইল দেখে বিষয়টির খোঁজ নিবেন।#

Manual7 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!