বড়লেখা-জুড়ীতে সাজুর সক্রিয় প্রচার, গতি ফিরছে তৃণমূলে – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সি‌লে‌টের গোয়াইনঘাটে নদীপথে চাঁদাবাজি: আটক ১ নৌকা ও নগদ টাকা জব্দ কুলাউড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করলো নতুন কুঁড়ি ক্লাব জুড়ীতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী গ্রেফতার : দুই শিশু সন্তানের আর্তনাদে এলাকায় বিষাদ বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ি আটক পরিচয়পত্র আধার কার্ড জব্দ সংবাদ সম্মেলন :: কুলাউড়ায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকি ও  জমি দখলের অভিযোগ জুড়ীতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ : ইউএনও বরাবর আবেদন ফেঞ্চুগঞ্জে নৌকায় বজ্রপাত রাজনগরের ৩ বড়শি শিকারির মৃত্যু প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে পড়েছিলো লাশ ওসমানীনগরে সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে হিজরি নববর্ষ উদযাপন ও আলোচনা 

বড়লেখা-জুড়ীতে সাজুর সক্রিয় প্রচার, গতি ফিরছে তৃণমূলে

  • সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
শরিফুল হক সাজু

Manual2 Ad Code
এস এইচ সৈকত :: মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরে এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছেন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা, বিএনপির মনোনয় প্রত্যাশি কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু।

সৈরাচার হাসিনা সরকারের সময় করা একাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। অবশেষে জুলাই আগস্টের ছাত্রজনতার তোপের মুখে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন বড়লেখা মাটি ও মানুষের নেতা শরিফুল হক সাজু। এরপর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন দলীয় কার্যক্রমে প্রাণ ফেরাতে।

দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই সাজু সাহেব শুরু করেন তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ। বড়লেখা শহর থেকে শুরু করে জুড়ীর প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত তার পদচারণা এখন আলোচনার বিষয়। বাজার, চা-বাগান, পাড়া-মহল্লা, এমনকি কৃষকের ঘরেও পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।

দিনের পর দিন মানুষের খোঁজ নিচ্ছেন, শুনছেন তাদের সমস্যা, তুলে ধরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা।

Manual6 Ad Code

তরুণ প্রজন্ম, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ—সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ এলাকাবাসীর কাছে তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। অনেকেই বলছেন, “সাজু ভাই ফিরে আসায় মনে হচ্ছে আমাদের পুরনো বিএনপি আবার জেগে উঠছে।”

শরিফুল হক সাজুর রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রদল থেকে। ছাত্র রাজনীতির সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা তার। দলে কখনো পদ-পদবির জন্য নয়, বরং আদর্শের জায়গা থেকে তিনি রাজনীতি করেছেন—এমনটাই বলছেন সহকর্মীরা।

বিদেশে অবস্থানকালেও তিনি ছিলেন বিএনপির একজন সংগঠক, একজন চিন্তাশীল কর্মী। ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন দূর প্রবাসে থেকেও।

Manual4 Ad Code

একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “তিনি বিদেশে থেকেও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেভাবে যোগাযোগ রেখেছেন তা অনেকের পক্ষে সম্ভবই না। দলের দুঃসময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন এক নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক। দেশে ফিরে এখন যেভাবে তিনি মাঠে কাজ করছেন, তা বড়লেখা-জুড়ীর রাজনীতিতে অভূতপূর্ব।”

বড়লেখা ও জুড়ীর মানুষের কাছে শরিফুল হক সাজু একজন ক্লিন ইমেজের নিরহংকারী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

Manual2 Ad Code

তিনি সর্বদা সাধারণভাবে চলাফেরা করেন, কর্মীদের সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করেন, প্রতিটি কর্মীর ডিটেলস ভালো করে জানেন। রাজনীতিতে ক্ষমতা বা বিত্ত নয়, মানুষের ভালোবাসাকেই তিনি মূল শক্তি মনে করেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ভাষায়, “সাজু সাহেবের রাজনীতি শালীনতা, সততা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক।”

মৌলভীবাজার-১ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক সচেতন এলাকা। এখানে বড়লেখা, জুড়ী ও চা-বাগান অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ঝোঁক সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দিলেও সাজুর প্রত্যাবর্তনের পর আবারো দলীয় কার্যক্রমে গতি এসেছে এই আসনে।

বড়লেখা পৌরসভার এক তরুণ কর্মী বলেন, “সাজু ভাই মাঠে নামার পর নেতাকর্মীরা এখন সংগঠিত হচ্ছে। চা-বাগান থেকে পাহাড়ি গ্রাম—সবখানেই বিএনপির পতাকা দেখা যাচ্ছে।”

তিনি মনে করেন, মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাঁর মূল শক্তি। তিনি এলাকায় কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। ব্যক্তিজীবনে সৎ, পারিবারিকভাবে শিক্ষিত ও সাদামাটা জীবনযাপনই তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।”

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণ যেমন পরিবর্তন চায়, তেমনি ত্যাগী ও সৎ নেতৃত্বের খোঁজও করছে। শরিফুল হক সাজুর মতো নেতাদের মাঠে ফেরাটা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন।

তিনি যেভাবে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হচ্ছেন, তাতে অনেকেই মনে করছেন—আসন্ন নির্বাচনে বড়লেখা-জুড়ী আসনে বিএনপি নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।

Manual7 Ad Code

একজন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তির সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “বড়লেখা-জুড়ী এখন সাজুকে ঘিরে এক নতুন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। তিনি শুধু একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নন, বরং বিএনপির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতির প্রতীক।”

দেশে ফিরে শরিফুল হক সাজু যেভাবে মাঠে কাজ করছেন, তা বিএনপির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তার নিরহংকারী চরিত্র, ক্লিন ইমেজ ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

বড়লেখা-জুড়ীর মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে নতুন আশায়— একজন নেতার প্রত্যাবর্তন ও মনোনয়নে হয়তো আবার ফিরিয়ে আনতে পারে গণমানুষের রাজনীতি, ন্যায় ও গণতন্ত্রের সেই পুরনো স্বপ্ন।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!