বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর চৌমুহনীতে রেলওয়ের লীজের ভূমিতে কয়েক ব্যক্তির পাকা স্থাপনা নির্মাণের জেরে ট্রাক পরিবহণ শ্রমিকরা প্রায় তিনঘন্টা কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে পৌরশহরের প্রধান সড়কে কয়েকশ’ হালকা, ভারী ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী এম্বুলেন্সসহ স্থানীয় জনসাধারণ। অবশেষে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় থানা পুলিশ সড়কের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করলে সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি নামে।
সরেজমিনে জানা গেছে, বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় প্রায় ১৫ বছরর পূর্বে রেলওয়ের পরিত্যাক্ত ভূমিতে উপজেলা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন পাকা টিনসেট ঘর নির্মাণ করে কার্যালয় ব্যবহার করছে। সম্প্রতি মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া আহমদ, ব্যবসায়ি হারুনুর রশীদ, গোলজার আহমদ ফকু, নুরুল আমীন প্রমুখ শ্রমিক সমিতির কার্যালয়ের উত্তর ও পশ্চিম পাশে পাকা দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ট্রাক পরিবহন শ্রমিকদের বাঁধায় কাজ বন্ধ রাখলেও বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকফুট ইটের গাঁথুনী করায় শুক্রবার সকাল দশটা থেকে ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পৌরশহরের সরকারি খাদ্যগুদামের পাশে এবং উত্তর চৌমুহনীর পয়েন্টে ফোরলেন সড়কে কয়েকটি ট্রাক আড়াআড়ি রেখে সড়ক বন্ধ করে দেয়। এতে উত্তর দিক থেকে আসা যানবাহন উত্তর চৌমুহনীতে এবং দক্ষিণ দিক থেকে আসা যানবাহন পৌরশহরে আটকা পড়ে। প্রায় তিনঘন্টা সড়ক অবরোধে কয়েকশ’ গাড়ি আটকা পড়ায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রী, রোগি, ব্যবসায়ি ও স্থানীয় জনসাধারণ। অবশেষে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দুপুর একটায় থানা পুলিশ সড়কের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করায় ভুক্তভোগিরা স্বস্তি পান।
ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুর রহমান খলকু জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে রেলওয়ের নিচু জমি ভরাট করে পাকা ঘর নির্মাণ করে তারা কার্যালয় ব্যবহার করছেন। ২০০৮ সালে এই লোকগুলো এখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে আমাদের বাধায় ব্যর্থ হয়। এই ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। কিন্ত বৃহস্পতিবার রাতের আধারে তারা আমাদের কার্যালয়ের পেছন ও উত্তরপাশে স্থাপনা নির্মাণের কাজ করেছে। যেকোন সময় কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলতে পারে। আমরা পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাইনি। এজন্য সকাল দশটা থেকে সড়ক অবরোধ করছি।
মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া আহমদ, ব্যবসায়ি হারুনুর রশীদ প্রমুখ জানান, তারা রেলওয়ে থেকে বাণিজ্যিক লীজ নিয়ে ১৫/১৬ বছর আগে পাকা দোকান ঘরের ফাউন্ডেশন ও লিন্টার টেনে রেখেছেন। তারা নিয়মিত খাজনা দিচ্ছেন। বৈধভাবেই তারা লীজের ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
থানার ওসি (তদন্ত) মো, হাবিবুর রহমান জানান, সকাল থেকে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় সড়কে চলাচলকারি যানবাহন ও মানুষের মারাত্মক ভোগান্তি হচ্ছিল। ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের বারবার অনুরোধ সত্তে¡ও তারা রাস্তা থেকে ট্রাকগুলো সরায়নি। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে দুপুর একটায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমরা রাস্তা ক্লেয়ার করে দিয়েছি।