
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে খাসিয়া (খাসি) জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বর্ষ বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের উৎসব ‘সেং কুটস্নেম’ এবারও বর্ণিল আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জির মাঠে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল এ উৎসবের আয়োজন করে।
নাচ গানসহ নানা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে খাসিয়া বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এ বছর তাদের ১২৬তম বছরকে বিদায় জানিয়ে ১২৭তম বর্ষকে স্বাগত জানান পুঞ্জির বাসিন্দারা। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জির তরুণ-তরুণীসহ শত শত মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

খাসিয়া (খাসি) জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বর্ষ বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের উৎসবে অংশ নেয়াদের একাংশ। প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।
২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর নভেম্বর মাসে মাগুরছড়া পুঞ্জির মাঠে এই বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নাচ–গান এবং নানা খেলাধুলায় অংশ নেন। মাঠজুড়ে বসে ছোটখাটো মেলা—যেখানে বাঁশ-বেতের সামগ্রী, পান, তীরধনুক, খাসিয়া পোশাকসহ নানা সামগ্রী বিক্রি হয়।
দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের কেন্দ্রে একটি লম্বা বাঁশ দাঁড় করিয়ে তার চারপাশ সাজানো হয়েছে কাগজ ও রঙিন দড়ি দিয়ে। তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওপরে উঠে মুঠোফোন জয়ের প্রতিযোগিতা ছিল দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া তীরন্দাজি, গুলতি দিয়ে লক্ষ্যভেদ, এবং নারীদের পান গোছানোর প্রতিযোগিতা ছিল উৎসবের অন্যতম আয়োজন।
খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা জানান, ‘সেং কুটস্নেম’ তাদের অন্যতম সর্বজনীন সামাজিক উৎসব। পুরনো বছর বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের ঐতিহ্য, সম্পর্ক ও সম্প্রদায়ের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ও মাগুরছড়া পুঞ্জির হেডম্যান জিডিশন প্রধান সুচিয়াং জানান, “সিলেট বিভাগের প্রায় ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জির মানুষ প্রতি বছর এই উৎসবে একত্রিত হন। দেশ-বিদেশের বহু পর্যটকও এখানে আসেন। খাসি সেং কুটস্নেম আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় আয়োজন গুলোর একটি।