স্থানীয় এলাকা সূত্রে ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাজীপুর ইউনিয়নের সাধনপুর গ্রামে বাড়উগাঁও মৌজায় খতিয়ান নং-৫২৩, দাগ নং-১০৩১, ১০৩২, ১০৩৩, ১০৩৪, ১০৪৪, ১০৪৮, ১০৪৯, ১০৫৪ দাগে সাইল রকম দুই একর ভূমি সাধনপুর গ্রামের বাসিন্দা মুহিবুর রহমান, নাইওর মিয়া, আব্দুল বাছিত বাচ্চু, সাইফুল ইসলাম, শফিক মিয়া, লিয়াকত আলী, আব্দুল মন্নান, আব্দুল গফুর, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল হান্নান, আব্দুর রশীদ, আব্দুস শহীদ, জুয়েল মিয়া, জয়নাল মিয়া, আকমল হোসেন, জাকির হোসেন, আব্দুল আজিজ, ফয়সল মিয়া গংদের মৌরশী সম্পত্তি। ওই জমিতে হরিচক গ্রামের বাসিন্দা, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান নেতৃত্বে তার সহযোগী ছব্দর আলী, আব্দুর রশীদ, আব্দুস সালাম সুরুজ, হামিদুর রহমান, মুহিবুর আলী, ইসমাইল মিয়া ও সাধনপুরের শাহিন মিয়া গত ২৬ নভেম্বর তপশীল বর্ণিত ভূমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে জোরপূর্বক ফসল আলু, সরিষা, ডাল রোপণ করে। এ ঘটনায় ছব্দর আলীকে প্রধান করে ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী কৃষক মুহিবুর রহমান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এরআগে গত ১৫ মার্চ সকালে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাধনপুর এলাকায় কৃষক মুহিবুর রহমান গংয়ের কৃষি জমিতে আদালত কর্তৃক জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার ফসল (আলু) তুলে নিয়ে যায় বিবাদী ছব্দর আলী ও ফজলুর রহমান গং।
এরআগে জমি দখলের অভিযোগ এনে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কৃষক মুহিবুর রহমান বাদী হয়ে ফজলুর রহমান গংয়ের ৬ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা (নং-৪৯/২০২৫) দায়ের করেন। ওই মামলার পর উভয়পক্ষকে বিরোধপূর্ণ ভূমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কুলাউড়া থানার এসআই মো. মুহিত মিয়া ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি করেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ ছব্দর আলী ও ফজলুর রহমান গংয়ের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে গত ১৯ মে প্রতিবেদন দাখিল করেন থানার এসআই মুহিত মিয়া। এরপর গত ২৪ আগস্ট বিজ্ঞ আদালত তপশীল বর্ণিত ভূমি মুহিবুর রহমান গংয়ের দখলে থাকায় এবং কুলাউড়া থানার প্রতিবেদন অনুযায়ী শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় বিরোধপূর্ণ ভূমিতে বিবাদী পক্ষ ফজলুর রহমান ও ছব্দর আলী গংয়ের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। কিন্তু পুনরায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ২৬ নভেম্বর মুহিবুর রহমান গংয়ের রেকর্ডীয় মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে হালচাষ করে ফসল রোপণ করে বিবাদী ফজলুর রহমান ও ছব্দর আলী গং। এতে বাঁধা দিলে বিবাদীরা মুহিবুর রহমান গংদের কথায় কর্ণপাত না করে তাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে মুহিবুর রহমান গংকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ছব্দর আলী ও ফজলুর রহমান গং।