“ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য” — হাফিজ আব্দুল কাদির
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন ততটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচার–সমর্থন, পাল্টা বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির মেলবন্ধন। সেই উত্তাপের মধ্যেই খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির।
গত শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামে তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন ন্যায়–ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে রাজনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ক্ষমতা নয়, রাজনীতি একটি আমানত। এই আমানত সঠিকভাবে পালনের জন্য সৎ, আল্লাহভীরু ও নৈতিক নেতৃত্ব অপরিহার্য। ছাতক–দোয়ারাবাজার দীর্ঘদিন বৈষম্য ও অবহেলার শিকার সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ছাতক–দোয়ারাবাজার অঞ্চল বহু দশক ধরেই অবহেলা, অসম উন্নয়ন, বেকারত্ব, নদীভাঙন, শিল্পদূষণ ও নিরাপত্তাহীনতার করাল গ্রাসে রয়েছে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি এলেও তা বাস্তবায়নে কোনো স্থায়ী দৃষ্টান্ত তৈরি হয়নি। জনগণের মৌলিক চাহিদা, শিক্ষা–স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম হয়েছে।
তার ভাষায়, “এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু তা হতে হবে টেকসই, স্বচ্ছ এবং ন্যায়–ইনসাফের ভিত্তিতে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ছাড়া কোনো উন্নয়নই স্থায়ী হয় না। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হলে তবেই শহীদদের ত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে, যোগ করেন তিনি। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এই প্রার্থী নির্বাচিত হলে সুনামগঞ্জ–৫ আসনের উন্নয়নে কয়েকটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন—দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গঠন। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উন্নয়ন খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। দরিদ্র, শ্রমজীবী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কঠোর নজরদারি সামাজিক বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ সেল গঠন করা হবে।
শিক্ষা খাতে বিশেষ সংস্কার মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তি শিক্ষায় বর্ধিত বিনিয়োগ ও বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন। গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার কমিউনিটি ক্লিনিককে কার্যকর করে চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বাজেটের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণ সড়ক–সেতু, কৃষি উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও নদীভাঙন রোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহণ।
নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার ও ধর্মীয়–সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নারীদের কর্মসংস্থান, সহিংসতা প্রতিরোধ ও শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ।
কালো টাকা ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতা, ভয়ভীতি ও কালো টাকার ছড়াছড়ির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন হাফিজ আব্দুল কাদির। তিনি বলেন,“আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে সংসদেও শক্ত কণ্ঠস্বর হবো।”
তিনি সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আপনারাই জাতির বিবেক। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপনাদের ভূমিকা ইতিহাস লেখে।”হিন্দু ও অমুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অঙ্গীকার প্রার্থী হাফিজ আব্দুল কাদির বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শে পরিচালনা করতে চাই। পাশাপাশি হিন্দু ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক, ধর্মীয় ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা কারও অধিকার ক্ষু করতে চাই না। বরং সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি ইমাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, জেলা সহসভাপতি মাওলানা সদরুল আমিন, ছাতক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা আকিক হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাও আখতার হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আখতার হোসেন আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ জাবেদ, সিলেট কোতোয়ালি পশ্চিম থানা সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল কালাম আজাদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্র মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি এনামুল হক আলী, পৌর সভাপতি মাও জহির আহমদ, দোয়ারাবাজার সভাপতি মাওলানা মইনুল ইসলাম, সেক্রেটারি জাকির হোসেন সাইদ, এবং আরও অনেকে।
প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি হাফিজ আব্দুল কাদির সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলারগোবিন্দগঞ্জ–সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের মাস্টার হাজী ইলিয়াস আলীর পুত্র। দীন ও নৈতিকতার পথে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে একজন সৎ, শিক্ষিত ও জনগণের পাশে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।
সম্মেলনের শেষাংশে তিনি সুনামগঞ্জ–৫ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন “এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। তিনি জনগণের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করে প্রার্থনা করেন—আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।###
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121
Leave a Reply