সিলেট থে‌কে ছাত‌কের সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জুড়ীতে রুহেল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের সাফল্য—৪২টি পর্তুগাল ভিসা সম্পন্ন হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষকদের বৈরী আবহাওয়া আর বানের জলের সাথে লড়াই  ছাতক কৃষকের কান্না : পাহাড়ি ঢল–টানা বৃষ্টিতে ফসল ডুবছে ভুয়া এলসিতে পাচারকালে- বড়লেখায় দেড় কোটি টাকার ভারতীয় জিরার চালান জব্দ : গ্রেফতার ১, বিজিবির ওপর হামলা ওসমানীনগরে পোস্ট অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা পয়সা লুট ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী কুলাউড়ায় এসপিকে ঘুষ দিতে গিয়ে আটক ২ জুড়ীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবির খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান মে দিবসের চেতনায় মজুরি বৈষম্যের অবসান হয়নি নারী শ্রমিকদের ছাত‌কে প্রবাসীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: আদালতের আদেশে দুই দোকানঘর জব্দ

সিলেট থে‌কে ছাত‌কের সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

Manual6 Ad Code

দুর্নীতি–চাঁদাবাজি–অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তোলপাড়**

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতি‌নি‌ধি ::

Manual1 Ad Code

সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের তারাপুর চা বাগান এলাকা থেকে জালালাবাদ থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত ০৬/২৪ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জালালাবাদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারেক গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Manual5 Ad Code

টানা চারবারের মেয়র, দীর্ঘদিন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছাতক পৌরসভা গঠনের পর ১৯৯৯ সালে প্রথম নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন আব্দুল ওয়াহিদ মজনু মিয়া। এরপরের ২০০৪, ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে টানা চারবার মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম চৌধুরী। দীর্ঘদিন পৌর এলাকায় তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রেখেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বৃহত্তর ছাতক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন তার চাচা সুজন মিয়া চৌধুরী; তিনিই ছাতক উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। পরিবারিক প্রভাব ও রাজনৈতিক বলয়ের কারণে এলাকার রাজনীতিতেও ছিল তাদের আধিপত্য।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা আবুল কালাম চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে ছাতক পৌর এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন।

দুর্নীতি–অনিয়ম–চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ পৌরসভার তহবিল, উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার বাণিজ্যে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগে মৌখিক ও লিখিতভাবে বহুবার অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় তিন হাজার পাতার অনিয়মের নথি সামনে আসে, যা তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—ভুয়া রেজুলেশন তৈরি রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ পৌরসভায় বিজ্ঞাপনের বিল, টেন্ডার অনুমোদন ও শ্রমিক সরবরাহে অনিয়ম পৌরসভার উন্নয়ন কাজে নির্মাণ সামগ্রীর মান কমিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ পৌর কাউন্সিলর ৭নং ওয়ার্ড তাপস চৌধুরীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে তারা দু’জনই পলাতক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করে।

Manual4 Ad Code

শিল্পাঞ্চল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ চলমান তদন্তে উঠে এসেছে ছাতকের শিল্পাঞ্চল ও পরিবহন বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে—আবুল কালাম চৌধুরী ও তার ভাইরা লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানি, সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিল, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং আকিজ প্লাস্টিক লিমিটেডের শ্রমিক সরবরাহ, পরিবহন ও ঠিকাদারি কার্যক্রম দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

পৌর মেয়র থাকা অবস্থায় ‘কালাম অ্যান্ড কোং’ নামে শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি চালাতেন তিনি—এমন অভিযোগও বহুবার উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদাররা দাবি করেন, এতে প্রকৃত ঠিকাদাররা বারবার বঞ্চিত হয়েছেন। এ ছাড়া নৌপথে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগে প্রভাব খাটানোসহ নানা অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল।

মাটি কেটে বিক্রি করে কোটি টাকা আয়—স্থায়ী অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পরিবেশের ক্ষতি না করার শপথ নিলেও বাস্তবে ছাতকের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট প্লান্টে সরবরাহ করেন। এতে একদিকে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে আসছে।

মাটি কাটার এসব ঘটনায় গত দুই দশকে কোনো সরকারি দপ্তর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পৌর কাউন্সিলরদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, মেয়র গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই এককভাবে অনেক কাজ করতেন। ভুয়া রেজুলেশন তৈরি, প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দেখানো, কাজের মান নিম্নমানের রাখা—এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। যদিও তার অনুসারীরা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিলেন।

মেয়র পদে থাকাকালে তিনি নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে মান খারাপ পেলে নির্মাতাদের বকাঝকা করতেন—এমন দৃশ্য বহুবার দেখা গেলেও বাস্তবে এসব ‘দুর্নীতিবিরোধী আচরণ’ ছিল অভিনব কৌশল—এমন মন্তব্যও শোনা যায় স্থানীয়দের মুখে। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ আবুল কালাম চৌধুরীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আড়াল করতে সক্রিয় ছিল। বিগত সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো দপ্তর কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা নেয়নি। এতে এলাকায় একধরনের ‘অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়’ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ছাতক বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বেও তার পরিবারের সরাসরি প্রভাব ছিল। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায়ও অস্বচ্ছতা ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

Manual8 Ad Code

গ্রেপ্তারের পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া আবুল কালাম চৌধুরীর গ্রেপ্তারের খবরে ছাতক পৌর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার সমর্থকরা বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করলেও অধিকাংশ নাগরিক দীর্ঘদিনের অভিযোগের বিচার শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!