নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি ::
একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পিছনে থাকে ছোট ছোট অনেক গল্প , অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ধৈর্য ধারণের পরীক্ষা। স্বপ্ন পূরণের পথে আসে নানা বাঁধা, কিন্তু সকল বাঁধা অতিক্রম করে আত্মবিশ্বাসের সাথে যারা এগিয়ে যায় সফলতা তাদেরই ধরা দেয়। তেমনই একজন উদ্যোক্তা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সফল উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম।
উত্তর জনপদেও মৎস্য ও শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ের সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন একজন সফল উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি দই তৈরি থেকে শুরু করে এখন হাঁস-মুরগি, ছাগল ও গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।
এছাড়াও গরুর গোবর থেকে জৈবসার উৎপাদন করে বাড়তি আয় করছেন। তার তৈরি দই ও মাঠা এখন খুুুুুুুুুুুুুুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিন দিন এ দই ও মাঠার কদর বেড়েই চলেছে। আত্রাই অঞ্চল পেরিয়ে এখন নওগাঁ, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এ দই ও মাঠা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ভরতেঁতুলিয়ায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছোট পরিসরে দই নামে দই তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন বেকার যুবক শফিকুল ইসলাম।
তিনি উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের মরহুম মজিবর রহমানের ছেলে।
স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে অবিরাম পরিশ্রম করে চলেন শফিকুল। দই তৈরির পাশাপাশি সেখানে গড়ে তোলেন দুগ্ধজাত গাভীর খামার। এ ছাড়াও সেখানে রয়েছে ছাগল ও ইগারমুরগির খামার।
সম্প্রতি তার খামার ঘুরে দেখা যায়, দুগ্ধজাত গাভী রয়েছে ৭টি। যার প্রতিটি গাভী প্রতিদিন ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ দেয়। এছাড়াও সেখানে রয়েছে শতাধিক মুরগি, দেশি হাঁস ও চিনা হাঁস। স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দই তৈরির মধ্যদিয়ে শুরু করলেও এখন তিনি মাঠা, ঘি ও কাঁচা দুধসহ বিভিন্ন প্রকারের সামগ্রী বাজারজাত করছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন শফিকুল ইসলাম।
এদিকে দই, মাঠা, ঘি, ছাগল ও হাঁস মুরগি ছাড়াও তিনি সেখানে নিজস্ব গরুর গোবর দিয়ে তৈরি করছেন কেঁচোসার। প্রতিদিন সেখানে প্রায় ১টন সার উৎপাদন করা হচ্ছে। যা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। তার এ কারখানা ও খামার জুড়ে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭-৮টি পরিবারের।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তার বাবা মরহুম মজিবর রহমান একজন সফল হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বেকারত্বের অভিশাপকে ঘুঁচাতে দই তৈরির মধ্যদিয়ে উদ্যোক্তার কার্যক্রম শুরু করেন।এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে তার উন্নতি হতে থাকে।
আত্রাই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে তার তৈরি দই, মাঠা নওগাঁ, রাণীনগর, নাটোরের সিংড়া ও রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় বাজারজাত করা হয়। প্রতিটি বেকার যুবক যদি কর্মদ্যোম হয় তাহলে কাউকেই বেকারত্বের ঘানি টানতে হবে না বলে তিনি মনে করেন#