করোনা ভাইরাস : সিলেটে কোন আইসিইউ বেড খালি নেই – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২ জাতীয় স্বার্থ ও গবেষণাভিত্তিক কূটনীতিই পররাষ্ট্রনীতির মুল ভিত্তি হতে হবে -জহরত এমপি ফেসবুক পোস্টের জেরে হামলা- বড়লেখায় বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী আহত, ১৩ জনের নামে মামলা সৌদি আরবে আগুনে নিহত আত্রাইয়ের বাকি ৫ জনের মরদেহ দেশে আসছে শনিবার  সিলেটে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা কুলাউড়ায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান- ‘প্রাইড অব বৃটেন’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটী কন্যা রেহানা আহমেদ ওসমানীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভা মৌলভীবাজারে যুব ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্নয় ক্যাম্পেইন ৮৬ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ!

করোনা ভাইরাস : সিলেটে কোন আইসিইউ বেড খালি নেই

  • রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

Manual1 Ad Code

ইয়াহহিয়া মারুফ, সিলেট ::

সিলেটে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগী। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত কয়েক দিন ধরে দিনে চারটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শ’ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালেও ঠাঁই নেই। সিলেটে করোনা ডেডিকেটেড ১০০ শয্যার ‘শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে’ কোনো বেড খালি নেই।

Manual5 Ad Code

গুরুতর রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউর জন্য রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়েছে। রোগীর স্বজনরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। চিকিৎসকরাও নিরুপায়।

শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেটে আরও ১৪৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সিলেটে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ হাজার ৩৩৫ জনে। এই সময়ে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মৃতের সংখ্যা ২৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন শনাক্ত ১৪৪ জনের মধ্যে ১৩৩ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার দুজন এবং হবিগঞ্জ জেলার ৯ জন রয়েছেন।

সিলেট বিভাগের চার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ বেড রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬টি ও মৌলভীবাজার হাসপাতালে পাঁচটি। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসার মান ও সেবা ভালো হওয়ায় রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই স্বজনরা রোগী নিয়ে ছুটে আসছেন শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। কিন্তু আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। তাছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা রোগীদেরই চিকিৎসা দিচ্ছেন, সন্দেহভাজন করোনার রোগীদের ভর্তি করাতে পারছেন না।

বুধবার ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে মুমূর্ষু এক রোগীকে নিয়ে আসা হয় শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। ওই রোগীর জন্য আইসিইউ সাপোর্ট দরকার ছিল। সিট খালি না থাকায় রোগীকে ভর্তির সুযোগ দিতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এভাবে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৬টি এবং ওয়ার্ড ও কেবিন মিলে সিট আছে ৮৪টি। এর মধ্যে আইসিইউর দুটি বেড নষ্ট। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালের আইসিইউ ১৪ বেডেই রোগী ছিল। আর ওয়ার্ড ও কেবিন মিলিয়ে রোগী ছিলেন আরও ৮২ জন।

এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুশান্ত কুমার যুগান্তরকে জানান, পুরো হাসপাতালই রোগীতে পরিপূর্ণ। কোনো রোগী মোটামুটি সুস্থ হলেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যে সিট খালি হচ্ছে সেখানে নতুন রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। আইসিইউতে সিট সংকট থাকায় করোনা পজিটিভ রোগী ছাড়া অন্য রোগীদের ভর্তি করা যাচ্ছে না। তবে পজিটিভ রোগীদের যথাসম্ভব রাখার চেষ্টা করছি।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, সুনামগঞ্জে কোনো আইসিইউ বেড নেই। নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থাও। করোনা রোগীদের জন্য ১৪৫টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে ১শটি বাকিগুলো বিভিন্ন উপজেলায়।

আর হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোখলেছুর রহমান উজ্জ্বল  জানান, তার জেলায়ও কোনো আইসিইউ বেড নেই। তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য জেলা সদরে ১০০ এবং সাতটি উপজেলায় পাঁচটি করে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে।

আর সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, সরকারিভাবে শুধু শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে। খাদিমপাড়া ও শাহপরাণ হাসপাতালসহ আর কোথাও আইসিইউ বেড নেই। করোনা রোগীদের জন্য জেলা সদর ও উপজেলাগুলোর সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক মিলিয়ে সর্বমোট ৮৯১টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে।

বিভাগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন জানান, জেলা সদরে করোনা রোগীদের জন্য পাঁচটি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে রোগী আছে, পুরো জেলায় ১৩০টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে মাত্র ৫০টি, বাকিগুলো উপজেলায়।

সিলেট নগরীর দুটি বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। তবে স্বল্প আয়ের মানুষেরা সরকারি হাসপাতালকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কারণ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় নিম্নআয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে। নগরীর আখালিয়ার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য রয়েছে আটটি আইসিইউ বেড।

এর মধ্যে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কোনো বেড খালি নেই বলে জানান হাসপাতালের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট রাশেদুল ইসলাম। আর দক্ষিণ সুরমার নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ১০টি আইসিইউ বেড।

Manual2 Ad Code

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চাপ বাড়ছে। তাই আমরাও আইসোলেশন শয্যা ও আইসিইউ বেডের সংখ্যাও বাড়িয়েছি। আমাদের ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। একটিও খালি নেই।

Manual1 Ad Code

তবে আসার কথা হলো সিলেটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম।

তিনি বলেন, আইসিইউ সুবিধা বাড়াতে আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। তবে আমরা হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অক্সিজেনে জোর দিচ্ছি। কারণ, অক্সিজেনের মাধ্যমে সাধারণ বেডেই অনেক রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। এজন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অন্তত ২০০ আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Manual1 Ad Code

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে যতই বেড বাড়াই তাতে রোগীর জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews