বড়লেখা প্রতিনিধি::
বড়লেখা উপজেলার ফকিরবাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের আসন্ন দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীদের একাংশ ও সিএনজি স্ট্যান্ডের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত শ্রমিক ও চালকদের বাদ দিয়ে কৃষক, দিনমজুর, গরু রাখালসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বড়লেখা শহরের ইয়াম্মী প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন একটি পূর্ণ প্যানেলের ১১ প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি পদপ্রার্থী ছিদ্দিকুর রহমান। এ সময় সহসভাপতি পদপ্রার্থী মাতাব উদ্দিন, সম্পাদক পদপ্রার্থী সাইবুর রহমান, সহসম্পাদক পদপ্রার্থী মন্তর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী কয়েছ আহমদ, দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী জামিল আহমদ, প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী আসুক আহমদ ও সদস্য পদপ্রার্থী ছয়েফ উদ্দিন, রনি আহমদ এবং কামিল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য সভাপতি, সম্পাদক ও সচিব কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রকৃত চালক ও শ্রমিকদের নাম রাখা হয়নি। অথচ কৃষক, দিনমজুর, গরু রাখালসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভোটার বানানো হয়েছে। অনেক প্রকৃত চালক ও শ্রমিকের ইউনিয়নের বৈধ কার্ড রয়েছে, আগের ভোটার তালিকাতেও তাদের নাম ছিল। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বাদ পড়া বেশ কয়েকজন প্রকৃত ভোটারের নাম ও কার্ড নম্বর প্রকাশ করেন। এর মধ্যে রয়েছেন-কার্ড নং ৬৪৭০ খলিলুর রহমান (উজিরপুর), ২০৬৪৮ ফারুক মিয়া (উজিরপুর), ৯৮৯০ পাপলু দাস (উজিরপুর),৯৮৯১ সিদ্দিকুজ্জামান (উজিরপুর), ৯৮৭০ সুমন আহমদ (উজিরপুর), ৯৮৭৩ মান্না, ৬৪৬৫ আব্দুল মন্নান (নয়াগাও), ৬৪৮৪ সোহাগ মিয়া (শিলকুরা), ৫৮৬৬ অয়েফ আহমদ (নয়াপাড়া), ১০৮৪৩ সোহেল আহমদ (বর্ণি চক), ২১৯৩২ শাহজাহান মিয়া (বর্ণি চক) প্রমুখ। অন্যদিকে, ভোটার হিসেবে যাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন-এনায়েত হোসেন (মুদৎপুর), আবু সাইদ (বর্ণি চক), জায়েদ হোসেন (বর্ণি চক), জাবের হোসেন ও কামিল হোসেন (বর্ণি নয়াগাও), বাবুল হোসেন ও হোসাইন আহমদ (বর্ণি চক), মির্জান উদ্দিন ও শাকিল আহমদ (মুদৎপুর), নূর উদ্দিন জিলু (বর্ণি চক) সামাদ হোসেন (বর্ণি নয়াগাও) ও রাসেল (বর্ণি চক)।
ছিদ্দিকুর রহমান জানান, তাদের অভিযোগের পর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি এই নির্বাচনকে পাতানো আখ্যা দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে আমরা অংশ নেব না। আমরা তা বর্জন করছি। আমাদের দাবি-প্রকৃত শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন বয়কটের কারণে বর্তমান শ্রমিক ইউনিয়নের থানা শাখার সভাপতি তাদের নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তিনি নিজের ঘনিষ্ঠজনকে ফকির বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি বানানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া ফকির বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের সাবেক ও বর্তমান সভাপতি তাদের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্বাচন স্থগিত করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত শ্রমিকদের ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত এবং ভূয়া অর্ন্তভূক্ত ভোটারদের বাদ দিয়ে পুনরায় ভোটার তালিকা প্রণয়নপূর্বক নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।