এইবেলা, বড়লেখা::
বড়লেখায় ২০২৫ সাল জুড়ে অপমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ২৫ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৯টি হত্যাকান্ড বছর জুড়েই আলোচিত হয়েছে। এসব হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়, আসামিও গ্রেফতার হয়। কিন্তু এসব হত্যাকান্ডের অধিকাংশের আজও সঠিক ক্লু-উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এতে গ্রেফতার আসামিরা আইনের ফাঁক-ফোকরে বেরিয়ে যায়। বছরের শেষপ্রান্তে গত ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার বিওসি কেছরীগুল গ্রামের বর্বোরচিত ও লোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনাটি শুধু বড়লেখা উপজেলায়ই নয়, দেশ জুড়ে আলোচিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা রাতে স্থানীয় বাজারে উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রাঙ্গিনগর গ্রামের যুবদল নেতা নোমান হোসেন (৩৪)-কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দশঘরি গ্রামের মারজান আহমদ, রায়হান আহমদ ওরফে রেহান, আবেদ আহমদ, নাঈম আহমদ ও জাকির আহমদ।
১৬ ফেব্রæয়ারি রাতে দেবর ঝন্টু লাল বিশ্বাস (২৫)-কে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে স্বামী উজ্জল বিশ্বাস (৩০)-কে হত্যা করে স্ত্রী দীপনা রাণী বিশ্বাস (১৯)। নিহত উজ্জল বিশ্বাস পেশায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক। তিনি উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের সুবোধ বিশ্বাসের ছেলে। লোমহর্ষক ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও ছোটভাইকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
১৯ মার্চ রাতে আগর কাজের সময় তুচ্চ ঘটনায় চাচা মায়ন আহমদের ধারালো বাটালের কুপে নির্মমভাবে খুন হয় ভাতিজা রাকিব হোসেন। সে উপজেলার হরিপুর গ্রামের জামিল আহমদের ছেলে। আলোচিত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালালেও অবশেষে পুলিশ ঘটনাকারিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
১৮ এপ্রিল রাত থেকে ১৯ এপ্রিল বিকেলের যে কোনো সময় উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বারহার গ্রামের দিনমজুর সালাহ উদ্দিনকে নির্মমভাবে খুন করে রাতখাল নদীতে ফেলে দেয়া হয়। স্থানীয় জনসাধারণ ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখে স্বজনদের খবর দেন। এঘটনায় নিহতের ভাই আমির উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রউফ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করলেও আফজাল হোসেন ব্যতিত অন্য তিনজনকেই ছেড়ে দেয়। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধিদের সানক্তপূর্বক গ্রেফতার দাবিতে নিহেতর স্বজনসহ এলাকাবাসি মানববন্ধন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই হত্যার ক্লু-উদ্ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
২৫ মে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার দক্ষিণভাগ শেখপাড়া কওমি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র জাফর আহমদ (১০) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে উপজেলার বড়থল আদর্শগ্রামের কাউছার আহমদের ছেলে।
এদিকে ২৮ মে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী গ্রামে বাবার বাড়িতে স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয় স্ত্রী নাদিয়াতুল ফেরদৌস (২২)। স্বামী সায়েল আহমদ সুমন (৩৪) পরিকল্পিতভাবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধে তাকে হত্যা করে। বাবা আব্দুল লতিফের হত্যা মামলায় পুলিশ সায়েল আহমদ সুমনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামের শ্বশুড়বাড়ির পুকুরপাড়ের উঁচু একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ৪ নভেম্বর কয়ছর আহমদ (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পেশায় কাঠমিস্ত্রি কয়ছর আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা। রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়।
বড়লেখার সর্বশেষ আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বছরটির শেষপ্রান্তের ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার বিওসি কেছরীগুল গ্রামে। কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ও তার ছোটভাই জুম ব্যবসায়ি আব্দুল কাইয়ুমকে পূর্ব-শত্রুতার জেরে তাদের নিজ বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে একই গ্রামের কামলা উদ্দিন, জমির উদ্দিন, আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল মুখোশধারী প্রতিপক্ষ। এঘটনায় পুলিশ জমির উদ্দিন ও আলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। জমির উদ্দিন মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/eibela12/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121
Leave a Reply