ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ব্যবসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী বুলবুল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ছাতক পৌর শহরের পুরাতন কাস্টম রোড এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামে বালি ও পাথরের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসার সুবাদে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।
গত বছর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া চরগাঁও গ্রামের আলী আহমদের ছেলে মাহমুদ হাসান এবং সিলেট নগরীর টিলাগড় কালাশীল মহল্লার মিজানুর রহমানের ছেলে মুমিনুর রহমান পাটোয়ারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তারা নিজেদের পাথর ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে হাজী বুলবুল আহমেদকে ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন।
প্রতারক চক্র জানায়, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া এলাকায় তাদের মালিকানাধীন কয়েকটি পাথরের বড় বড় স্তূপ রয়েছে, যা বিক্রি করে তারা যৌথভাবে লাভবান হতে পারবেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে হাজী বুলবুল আহমেদ প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই করার উদ্যোগ নেন।
পরবর্তীতে হাজী বুলবুল আহমেদের ছোট ভাই মছরু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মাহমুদ হাসান ও মুমিনুর রহমান পাটোয়ারী কথিত ওই পাথরের স্তূপ দেখাতে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তারা দাবি করেন, এসব বোল্ডার পাথরের স্তূপ তাদের মালিকানাধীন এবং এগুলো বিক্রি করে ভালো লাভ করা সম্ভব। তাদের কথাবার্তা ও আচরণে বিশ্বাস জন্মালে মছরু মিয়া পাথর ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।
একপর্যায়ে প্রতারক চক্র অগ্রিম টাকা দাবি করলে হাজী বুলবুল আহমেদ সরল বিশ্বাসে তাদেরকে টাকা প্রদান করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ৮ মে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিয়াম এন্টারপ্রাইজের উত্তরা ব্যাংক ছাতক শাখার হিসাব (সিসি-০৭৫২৬৩০০০০০৩১৯০) থেকে আরটিএসের মাধ্যমে মাহমুদ হাসানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মায়মুনা এন্টারপ্রাইজের পূবালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৪৯৬৯০১০৭৪৬৯৬-এ ১০ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়।
এরপর গত বছরের ২৬ মে একইভাবে অভিযুক্ত মুমিনুর রহমান পাটোয়ারীকে আরও তিন লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে পাথরের স্তূপ দেখিয়ে তারা ব্যবসার কথা বলেছিল, সেগুলোর প্রকৃত মালিক অন্য ব্যক্তি। তখন থেকেই প্রতারণার বিষয়টি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, প্রতারক চক্র বিভিন্ন অজুহাত ও কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে করতে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
হাজী বুলবুল আহমেদ বলেন, “তারা আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে আমি বা আমার প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি পাওনা টাকা দাবি করি, তাহলে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। এ কারণে আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান দাবি করেন, “আমার কাছে উনার কোনো টাকা পাওনা নেই। বরং উনি দীর্ঘদিন ধরে আমার পাওনা টাকা ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। অন্য অভিযুক্ত মুমিনুর রহমান পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ব্যবসার নামে প্রতারণার এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্যবসায়ী এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।###