এইবেলা, কুলাউড়া ::
উন্নত জীবনের আসায় মামা শশুরের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে সৌদিআরব গিয়েছিলেন আসাদ উদ্দিন। বলা হয়েছিল টেইলারিং কাজ এবং ৪৫-৫০ হাজার টাকা বেতন পাবেন। কিন্তু সৌদিআরব যাওয়ার তিন মাস অতিবাহিত হলেও থাকা-খাওয়া, কাজ, বেতন কিছুই পাচ্ছেন না তিনি। সৌদিতে তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মৌলভীবাজার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রবাসী আসাদ উদ্দিনের স্ত্রী ফাহমিদা জান্নাত তামান্না।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের বাবুসিংগাওয়ের বাসিন্দা আসাদ উদ্দিনের স্ত্রী ফাহমিদা জান্নাত তামান্না আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, একই ইউনিয়নের বটনিঘাট এলাকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমান চৌধুরী তার সম্পর্কে মামা। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মামা ভাগ্নিকে বলেন, সৌদিআরবে তার শ্যালক জাহাঙ্গির আলম ভালো অবস্থায় আছে। সেখানে টেইলারিং/ক্লিনার কাজের জন্য একজন লোক প্রয়োজন। মামার কথায় ভাগ্নিও রাজি হন স্বামীকে পাঠাতে।
আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ৭জন স্বাক্ষীর মধ্যস্থতায় ষ্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিপত্রে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা সাব্যস্থ করে ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারী আসাদ উদ্দিন সৌদিআরব যান। ওখানে যাওয়ার পরেই আসাদ উদ্দিন বুঝতে পারেন কথায় আর কাজে কোন মিল নেই। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে বলে তিন মাস অতিবাহিত করেন লুৎফুর রহমান চৌধুরী ও তার শ্যালক জাহাঙ্গির আলম।
প্রবাস থেকে মুঠোফোনে আসাদ উদ্দিন জানান, তিনি সৌদিতে জিম্মি অবস্থায় আছেন। কাজ ও বেতন-তো দূরের কথা, তাকে ঠিকমত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও দেওয়া হচ্ছেনা।
প্রবাসী আসাদ উদ্দিনের স্ত্রী ফাহমিদা জান্নাত তামান্না বলেন, তার স্বামীর অবস্থা সংকঠাপন্ন। তার স্বামীকে লুৎফুর রহমান চৌধুরী ও তার শ্যালক জাহাঙ্গির আলম সৌদিতে জিম্মি করে রেখেছেন। স্বামীকে ফেরত পেতে হলে তাদেরকে আরও ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। লুৎফুর রহমান চৌধুরী এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা। এ অবস্থায় তিনি নিরুপায় হয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের পাঁচপীর জালাই এলাকার বাসিন্দা শাহান উদ্দিন সাদ্দাম ছিলেন ওই বিদেশ যাওয়ার চুক্তিপত্রের অন্যতম স্বাক্ষী। তিনি জানান, লুৎফুর রহমান চৌধুরী আমাদের মামা। কিন্তু আপন মামা হয়ে এমন জগন্য কাজ করবেন তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিলো। সবকিছু ঠিকঠাক করে দিতে মামা এখন আরও ৩ লক্ষ টাকার জন্য আমার বোনকে চাপ দিচ্ছেন। আমার বোন জামাইকে সৌদিতে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতে চাচ্ছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলায় তাকেও মারধরের হুমকি দিচ্ছেন লুৎফুর রহমান চৌধুরী।
এ বিষয়ে লুৎফুর চৌধুরী বলেন, আমার ভাগ্নি জামাইকে সৌদিআরব নিয়েছে আমার শ্যালক। সেই চুক্তিপত্রে আমি একজন স্বাক্ষী ছিলাম মাত্র। শুনেছি কিছুটা সমস্যা হয়েছে। বিশ্বের সব দেশেই এখন অশান্তি বিরাজ করছে। তাদেরকে বলেছি এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে। তাদের কাছে আমার শ্যালকের ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা না দেওয়ার জন্য এখন নানা বাহানা তৈরী করছেন।