শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া,আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম,শিবলু, নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিশেষ করে নদীতীর সংলগ্ন এলাকা থেকে অবাধে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে নদীতীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং উত্তর আলেপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, কবরস্থান, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা আরও বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে ইজারা নেওয়া স্থান থেকে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু নদীর তীর ঘেঁষে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় নদীতীর রক্ষা বাঁধ, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’
এ সময় কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।’
কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন বলেন, ‘ধলাই নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীর রক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও কবরস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা চাই, ইজারার শর্ত মেনে বালু উত্তোলন করা হোক। তবে নদীর তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে অচিরেই বড় ধরনের নদীভাঙন দেখা দিতে পারে।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নদীর পাশের বাঁধগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে নদীতীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদী তীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে।’#