কমলগঞ্জে ঊষালগ্নে সাঙ্গ হলো মণিপুরি মহারাসলীলা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় গৃহবধু মুন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছামেলী ঢাকায় গ্রেফতার জুড়ীতে বিদায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা, নতুন শিক্ষকদের বরণ জুড়ীতে অটোরিকশা চালক খুনের ঘটনায় মেয়েসহ সিএনজি মালিক আছমা বেগম গ্রেফতার বড়লেখায় ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ‘শেষ বিদায়ের সাজ’র উদ্বোধন কুড়িগ্রামে পরিবেশ বান্ধব গ্রাম ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে শেয়ারিং ও উদযাপন  জুড়ীতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার কুলাউড়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে সীমানা দেয়াল নির্মাণ : ১০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে প্রাইমারী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কুলাউড়ার লংলা কলেজে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আত্রাইয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণের শুভ উদ্বোধন 

কমলগঞ্জে ঊষালগ্নে সাঙ্গ হলো মণিপুরি মহারাসলীলা

  • মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

Manual3 Ad Code

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কমলগঞ্জ ::

Manual3 Ad Code

মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু কিশোরদের অংশ গ্রহণে রাখাল নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১২টার পর থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী পোষাকে সজ্জিত মণিপুরী তরুনীদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয় মণিপুরী মহারাসলীলা উৎসব। মঙ্গলবার ঊষা লগ্নে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। অতঃপর যার যার নিজ নিজ গন্থব্যস্থলে চলে যান। রাসোৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়েছিল কমলগঞ্জের মণিপুরী অঞ্চলগুলো। ভিড় সামলাতে পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের তিনটি পৃথক স্থানে এ মহারাসলীলা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনাকে উপেক্ষা করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক সমাগম ঘটে এ রাসোৎসবে।

Manual7 Ad Code

মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মণিপুরি ললিতকলা একাডেমীর সংলগ্ন জোড়া মন্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর রাধাকৃষ্ণের প্রণয়োপখ্যানের সে রাসলীলা উপভোগ করেন আগত ভক্তবৃন্দসহ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আগত দর্শকরা।

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে একই ভাবে আদমপুরে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সসহ দুটি পৃথক মন্ডপে মৈতৈ মণিপুরি সম্প্রদায়ের শিশু কিশোরদের অংশ গ্রহনে সোমবার দুপুর থেকে শ্রীকৃষ্ণের ছোট বেলার রাখাল নৃত্য পরিবেশন করা হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত। মণিপুরি কালচারাল সেন্টার প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক এ কে শেরাম প্রমুখ।

Manual4 Ad Code

সন্ধ্যা রাতে মাধবপুর শিববাজার জোড়ামন্ডপ এলাকায় মণিপুরী রাসলীলা উৎসব পরিদর্শনে আসেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বিপিএম, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকজন।

দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ” বৃহত্তর সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা” পূর্ণিমা তিথিতে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়ান্ডপ ও আদমপপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁওস্থ পাশাপাশি দুটি মন্ডপে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর রাধাকৃষ্ণের প্রণয়োপখ্যানের সে রাসলীলা উপভোগ করতে সারাদেশ থেকে ছুটে আসেন হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাংবাদিক, দেশি- বিদেশি পর্যটকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষজন। বর্ণাঢ্য আয়োজন ও মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মাধবপুর ও আদমপুরে রাসোৎসবের জন্য তৈরী সাদাকাগজের নকশায় সজ্জিত মন্ডপগুলো লাখো মানুষের মিলনতীর্থে পরিণত হয়। মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৭৭৯ সালে মণিপুরের মহারাজা ভাগ্যচন্দ্রস্বপ্নদৃষ্ট হয়ে যে নৃত্যগীতের প্রর্বতন করেছিলেন তাহাই রাসোৎসব। ভাগ্যচন্দ্রের পরবর্তী রাজাগনের বেশরিভাগই ছিলেন নৃত্যগীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাসনৃত্যে অংশগ্রহণ করতেন। এর ফলে মণিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে এ কৃষ্টির ধারাবাহিকতায় কোন ছেদ পড়েনি। অতীতের সেই ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই কোন রুপ বিকৃতি ছাড়াই রাসলীলায় মণিপুরী নৃত্য শুধু কমলগঞ্জের নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্য কলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। ১৯২৬ সালের সিলেটের মাছিমপুরে মণিপুরী মেয়েদের পরিবেষ্টিত রাস নৃত্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরে কবিগুরু কমলগঞ্জের নৃত্য শিক্ষক নীলেশ্বর মুখার্জীকে শান্তি নিকেতনে নিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন মণিপুরী নৃত্য শিক্ষা।

কমলগঞ্জে প্রায় এক মাস আগ থেকেই চলছে রাসোৎসবের প্রস্তুতি। মণিপুরী সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি কুমারী কিশোরদের রাস লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে নৃত্য ও সংগীতের তালিম নেয়ার ধুম পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে তাবৎ বাড়িতে রাসধারী ও রাসলীলার উস্তাদ এনে শিক্ষা দেয়ার রেওয়াজ প্রচলিত। আনুমানিক ৪০-৫০ জন কিংবা ততোধিক সংখ্যার কিশোরী এ রাস লীলায় অংশগ্রহণ করে থাকে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!