বড়লেখা প্রতিনিধি :
বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বড়খলা এলাকায় বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযানে ভারতীয় অবৈধ দাবীতে আটক ১৪টি মহিষ জিম্মায় রাখা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
মহিষগুলো পশুর হাট থেকে ক্রয় করেছেন দাবিদার লুৎফুর রহমানের ক্রয়ের ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাই সময় সাপেক্ষ হওয়ায় বিজিবি মহিষগুলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের জিম্মায় রেখে যায়। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
যৌথ অভিযানের নেতৃত্বে থাকা বিওসি টিলা বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১৪ আগস্ট রাতে সীমান্ত অতিক্রম করে চোরাকারবারিরা ভারতীয় অবৈধ মহিষের চালান নিয়ে আসার খবর পায় বিজিবি। বিভিন্ন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি খবর পায় মহিষগুলো খলাগাও এর লুৎফুর রহমান ও হিফজুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে পরদিন ১৫ আগস্ট ভারতীয় অবৈধ মহিষগুলো আটকের জন্য বিজিবি-পুলিশ লুৎফুরের বাড়িতে যৌথ অভিযানের উদ্যোগ নেয়। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও খবর দেওয়া হয়। সকলের উপস্থিতিতে যৌথ বাহিনী মহিষগুলো উদ্ধারের জন্য লুৎফুর রহমানের বাড়িতে গেলে প্রথমে তিনি মহিষগুলো তার খামারের পালিত ও বিজিবির অকশন থেকে কেনার দাবী জানিয়ে গোয়ালঘর খুলতে দেননি। বিজিবি মহিষগুলো ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তার ছোটভাইয়ের আলমিরাতে তালাবদ্ধ এবং ছোটভাই বাড়িতে নেই জানিয়ে সময় চান। প্রায় দেড়ঘন্টা পর তিনি এসে চান্দগ্রাম বাজারের দুইটি রশিদে ১৪টি মহিষ ক্রয়ের কাগজ দেখালে বিজিবি কাগজগুলো সঠিক নয় বলে দাবী করে। তখন দুইজন বিজিবি সদস্য রশিদগুলো নিয়ে চান্দগ্রাম বাজারের পশুর হাটের ইজারাদারের অফিসে গিয়ে মুল রশিদ বই, সাথে নেওয়া রশিদের ডুপ্লিকেট কপি ও সিসি ক্যামেরা যাচাই করে নানা অসংহতি খুঁজে পায়। আরো প্রায় দেড়ঘন্টা পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে ফিরে বিস্তারিত অবহিত করলে লুৎফুর রহমান ও তার ছোটভাই ক্রয়ের কাগজপত্র সঠিক বলে দাবী করে মহিষের ঘর খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মহিষ ক্রয়ের রশিদগুলো অধিকতর যাচাই-বাছাই সময় সাপেক্ষ হওয়ায় ওই সময় পর্যন্ত বিজিবি দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের জিম্মায় রাখতে সম্মত হওয়ায় লুৎফুর রহমান গোয়াল ঘর খুলে দেন। সকলের উপস্থিতিতে গোয়ালঘর খুলে বাছুরসহ ১৪টি মহিষ পাওয়া যায়।
বিজিবির বিওসি টিলা ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামাল হোসেন জানান, বিজিবির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাগজপত্র যাচাই কার্যক্রম চলাকালিন মহিষগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির জিম্মায় রাখা হয়েছে। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযান থেকে তাকে ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। মহিষের মালিক দাবিদার ব্যক্তির ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ১৪টি মহিষ তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।