জুড়ীতে নৌকাবাইচ ট্রাজেডির ৩৭ বছর – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খাদ্যে ভেজাল রোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে —-এমপি লুনা কমলগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদে অমানষিক নির্যাতন; ভিডিও ভাইরাল কুড়িগ্রামে ওয়াল্ড ভিশনের আয়োজনে ৫৪টি পরিবার পেল স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বাস–সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন- বড়লেখায় ১১৬৮ মেট্রিক টন ধান ও চাল কিনবে সরকার পুলিশের বিশেষ অভিযান- বড়লেখায় মাদক ব্যবসায়িসহ ৬ পলাতক আসামি গ্রেফতার কাতারস্থ কুলাউড়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি বাবুল আহমেদ দুর্নীতি বিরোধী বিতর্কে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন ক্যামেলিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলনে যাবে মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘ বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু

জুড়ীতে নৌকাবাইচ ট্রাজেডির ৩৭ বছর

  • শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

Manual5 Ad Code

এইবেলা, জুড়ী ::

২২ আগস্ট জুড়ীতে নৌকাবাইচ ট্রাজেডির ৩৭ বছর। ১৯৮৩ সালের এই দিন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের কামিনীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কন্টিনালা নদীতে নৌকাবাইচ চলাকালে মানুষের চাপে কন্টিনালা নদীর ওপর মেরামতাধীন জুড়ী-ফুলতলা সড়কের কামিনীগঞ্জ বাজার সেতু ভেঙ্গে পড়ে প্রায় ১০ জন নিহত ও অগুণিত মানুষ আহত হন। নিখোঁজ হন অসংখ্য মানুষ।

জানা যায়, এক সময় স্থানীয় ফখর উদ্দিন ও রজব আলীর উদ্যোগে জুড়ী নদীতে প্রতি বছর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হতো। দুর-দুরান্ত থেকে আগত বাহারী সাজে সজ্জিত অসংখ্য নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। হাজার হাজার মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে এখানে আসতেন। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে এ সময় স্থানীয়দের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করতো।

Manual4 Ad Code

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের ২২ আগস্ট রোববার অনুষ্টিত প্রতিযোগিতায় চুড়ান্ত দৌঁড়ে তিনটি নৌকা উত্তীর্ণ হয়। ততক্ষণে নদীর দুই তীর প্রায় দুই কিলোমিটার লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। কামিনীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নদীর (জুরী নদীর শাখা কন্টিনালা) উপর জুড়ী-ফুলতলা সড়কে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলে নির্মিত লোহার সেতুটির তখন ভগ্নদশা। মেরামত কাজ চলছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও মানুষের অবস্থানের ফলে সেতুতে তিল ধারনের জায়গা ছিল না। তখন বিকেল ৫টা। শুরু হয়েছে চুড়ান্ত দৌঁড়। হঠাৎ করে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত বিকট শব্দ। চোখের পলকে সেতুটি উধাও। লোকজনসহ হারিয়ে যায় নদীতে পানির নিচে। শুরু হয় আহাজারী, কান্নার রোল। পারে থাকা লোকজন যে যার মত করে নেমে পড়েন উদ্ধার কাজে। নৌকা, কলাগাছ ও বাঁশের ভেলায় করে শিশু, যুবক ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক ও কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। অনেকেই ছিলেন নিখোঁজ। পরবর্তীতে নদীসহ হাকালুকি হাওরে ভাসমান অবস্থায় কামিনীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আক্কেল আলীর পুত্র সহিদুল ইসলাম ফয়সল (১১), পশ্চিম ভবানীপুরের তমছির আলীর পুত্র ময়না মিয়া (১১), ভোগতেরা গ্রামের মাওলানা চাঁন মিয়ার পুত্র ছালাম মিয়া (২২), ভবানীপুরের ছিটু গাজীর পুত্র তাজুল ইসলাম (১৫) এবং কাপনাপাহাড়ের মখলিছ (২৫) সহ প্রায় দশ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুসহ অগুণিত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় নি। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে সেতুর নিচে চাপা পড়া অনেককে উদ্ধার করাও সম্ভব হয় নি।

Manual8 Ad Code

নৌকাবাইচে সেতু ভাঙ্গার ঘটনাটি তখন আয়োজক ‘রজবের গজব’ নামে মানুষের মুখে মুখে ফিরছিল। আনন্দের নৌকাবাইচটি পরিণত হয় বিষাদে। সেই থেকে আজ ৩৭ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে জুরীনদীতে আর নৌকাবাইচ না হলেও মানুষের মন থেকে সেই ট্রাজেডি এখনও মুছে যায় নি। ভয়াবহ সে দিনক্ষণের কথা মনে হলে আজো লোকজন আঁতকে উঠেন।#

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!