আল আমিন আহমদ : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধান।অনেক কৃষকের চোখে মুখে স্বপ্ন ভঙ্গের চাপ।তবে গত দুদিন বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি কিছুটা কম বাড়ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে আগাম বন্যা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।গত কয়েকদিনে ফুলতলা ও জায়ফরনগর ইউনিয়নে দুটি বাড়ী বজ্রপাতের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।এ দুটি ঘটনায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওর-এ পানি দ্রুত বৃদ্ধির ফলে হাওরজুড়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
যদিও জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন,হাওরে ২৭৩৫০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২,৪০৯ হেক্টর বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে।যা উৎপাদনের ৮২%। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।এ ছাড়া ও ৭ টি উপজেলায় গতকাল (২৯ এপ্রিল) ১০০ মে.টন জিআর(চাল)এবং ৩৬০০০০/- টাকা নগদ বরাদ্দের ঘোষনা দিয়েছে।বন্যা দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য ১১৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রব আক্ষেপ করে বলেন, মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে এমন আকস্মিক বৃষ্টিপাত তাদের সব পরিশ্রমকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেক কৃষকই দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করলেও বাড়তে থাকা পানির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।এছাড়া রৌদ্র না থাকায় অনেক ধান শুকানো যাচ্ছে না।ফলে ধানে চারা গজিয়েছে।যার ফলে তাদের দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে।
বেলাগাঁও গ্রামের মৃত আং সহিদ এর পুত্র মোঃ হানিফ মিয়ার ১০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে আহাজারি করছেন। একই গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান,তাহার একমাত্র সম্বল ৮ বিঘা জমি অনেক টাকা কর্জ করে ফসলে ব্যয় করে আজ অসহায় হয়ে দিশেহারা।চোখে মুখে ঋণের চাপ ভর করেছে।
ক্ষতিগ্রস্হ কৃষকের ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ দেখতে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নৌকা নিয়ে হাকালুকি হাওর পরিদর্শন করে কৃষকের সাথে কথা বলেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা। তিনি বলেন আজ উপজেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠকে হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটার প্রয়োজনীয় ব্যবস্হার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,ক্ষতিগ্রস্হ কৃষকদের কে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান আছকর,ইউপি সদস্য জাকির মনির, আবুল কাশেম,কৃষক আব্দুর রব প্রমূখ।
জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল আলম খান জানান,এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০% বোরো ধান কর্তন শেষ হয়েছে।আনুমানিক ২৫০০ বিঘা জমির ধান কর্তন এখন ও বাকি রয়েছে।অতিবৃষ্টির কারণে কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে খোলা জায়গায় অবস্থান না করা, নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার জন্য সকলকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়ার এ ধরনের প্রতিকূলতা অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। তাই দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।