এইবেলা, কুলাউড়া ::
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচপীর প্রতাবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে গেছে।
যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ছাদের একাধিক স্থানে বড় বড় অংশ ভেঙে পড়েছে এবং লোহার রডগুলো উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে এবং ভেজা অবস্থায় আরো পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৯ সালে প্রথম একতলা বিশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি নির্মিত হয়। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি মডেল বিদ্যালয় হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংয়ে একটি অফিস কক্ষ, প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষ ও আরো একটি শ্রেণী কক্ষ রয়েছে। টিনসেডের দুই কক্ষের আরো একটি ঘর থাকলেও ২৮০ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত হওয়ায় স্থান সংকুলান দেখা দিয়েছে। শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারনে এমনিতেই হিমশিম খেতে হয়।
অপরদিকে ভবনের দুটি কক্ষের এই অবস্থার কারনে আগামীতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হবে বলে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইদ্রিছ আলী, আব্দুল বারী, জমশেদ আলী মাসুদ আহমেদ, আব্দুল হান্নান, কার্তিক অলমিক ও কৃষ্ণ দাসসহ অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবনটি সংস্কার করা দরকার।
এমনিতেই আমাদের বিদ্যালয়ে কোন এই কয়েক দশকে কোন নতুন ভবন নির্মিত হয়নি। নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
পাঁচপীর প্রতাবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, আমি যেদিন যোগদান করি সেই থেকেই এই ভবনের কক্ষের অবস্থা এরকম। আমি এক বছর হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, সরেজমিন গিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#