জিয়াউল হক জিয়া :: এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় ৮৬৮টি সর্বজনীন ও ১৪০টি ব্যক্তিগত মণ্ডপসহ মোট এক হাজার আটটি মন্ডেপ চলছে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। নির্বিগ্নে পূজা উদযাপন সম্পন্ন করার জন্য জোরদার করা হয়েছে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গত বছরের চেয়ে এবছর পূজার খরচ বেড়েছে অনেকগুন। তবে অনেকগুলো চা বাগানে এখনো বকেয়া ও বোনাস না পাওয়ায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা অনেকটাই ফিকে হয়ে আছে চা শ্রমিকদের।
ইতিমধ্যে পূজারি ভক্তরা মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে দূর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছেন। প্রতিবছর দেশের সবচেয়ে বেশি ও জাঁকজমকপূর্ণ পূজার আয়োজন হয় মৌলভীবাজারে। এবছর এক হাজার আটটি মণ্ডপে হবে দেবীর পূজা।
পূজা কমিটির নেতারা জানান, জেলার কুলাউড়ার কাদিপুর, রাজনগরের পাঁচগাঁও ও শহরের তিনটি বড় ও আকর্ষণীয় আবাহন, মহেশ্বরী ও ত্রিনয়নী পূজামণ্ডপ গুলোতে দুর্গার দর্শণে ভীড় করেন। বড় মণ্ডপগুলোতে নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। লাগানো হবে সিসি ক্যামেরাও।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, ‘আমরা পূজা উদযাপন কমিটি থেকে চারটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত জেনারেটর রাখার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। দ্বিতীয়ত সিসি ক্যামেরা রাখার কথা বলা হয়েছে।’ প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যাকটা পূজা মন্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তার সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখিছ।
এবছর জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এরইমধ্যে জেলার প্রাচীন তীর্থস্থান রাজনগরের পাঁচগাওয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ভিড় হয়। একই সঙ্গে কুলাউড়ার কাদিপুর, শিববাড়ি, সদরের ত্রিনয়নী, আবাহন ও মহেশ্বরী, শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগ, লালবাগ ও শাপলাবাগের বেশকিছু মণ্ডপেও প্রচুর ভিড় হয়।
তবে, বেশ কিছু চা বাগানে এখনো দেয়া হয়নি পূজার বোনাস ও বকেয়া পাওনা। হতাশ চা শ্রমিকরা চেয়েছেন সহযোগিতার।
চা শ্রমিকরা জানান, প্রায় সব জিনিসেরই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাগান মালিকেরা যদি তাদের সাহায্য করত তাহলে তাদের পূজা আরও সুন্দর হতো। সারাবছর এ পূজার বোনাসের দিকে তাকিয়ে থাকেন বাগানবাসী। তারা ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা-কাপড় ও ভালো খাবার দেয়ার আশায়।
এদিকে পূজাকে সামনে রেখে সারা জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। গুজব রুখতেও নেয়া হয় নানা ব্যবস্থা। চা শ্রমিকসহ প্রত্যেকটি সার্বজনীন মন্দিরে পাঁচশো কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হচ্ছে। বারবার সভা সমাবেশ করছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা প্রশাসন থেকে ১৯টি ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সকল হিন্দু সম্প্রদায় তাদের পূজা উৎযাপন করার জন্য সকল কমিউনিটির নেতাদের নিয়ে এরইমধ্যে আমরা একাধিক সভা করেছি। সকলের থেকে আমরা স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্তভাবে সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি।’
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট থাকবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য।’ পাশাপাশি সকল উপজেলায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় থাকবে।
আসুর বিনাশী দেবী দুর্গা জাগতিক সব অশান্তি দূর করবেন এমনটাই আশা মায়ের ভক্তদের। তারা মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে মায়ের পায়ে অঞ্জলী অর্পণ করে বিশ্ববাসীর জন্য শান্তি কামনা করছেন।