আল আমিন আহমদ ::
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিজ উদ্যোগে ভবানীগঞ্জ বাজারের খাল খনন ও আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন মৌলভীবাজার-১ সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দীন আহমেদ।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মাছুম রেজা চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণের কল্যাণে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশে খাল বিল ভরাট হলে অকালে বন্যার কবলে পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্হ হয়।
এ ধরনের উদ্যোগ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জুড়ীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী উপলব্ধি করে আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি জুড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং এ ধরনের জনমুখী কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ভারপ্রাপ্ত) সাবরিনা আক্তার। তিনি বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে এমন উদ্যোগ গ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং প্রশাসন সবসময় এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, পশ্চিম জুড়ী ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি হাজী আব্দুল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম তুলা,শ্রমিকদল নেতা মোস্তাকিম আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল আহমদ সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত) সাবরিনা আক্তার বলেন,জুড়ীতে আমি দেড় বছর থেকে কাজ করছি।কিন্তু বিভিন্ন কারণে ময়লা ফেলার জায়গার ব্যবস্হা করতে পারিনাই।এমপি সাহেবের নিজের জায়গায় ময়লা ফেলার ব্যবস্হা করে মহত্ত্বের এক মানবিক পরিচয় দিলেন।এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
মাছুম রেজা চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালটি ভরাট ও দূষিত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে এলাকার জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং জুড়ী শহরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।২০১৬ সাল থেকে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে আছি।জুড়ীতে ময়লা ফেলার একটা জায়গার ব্যবস্হা করতে পারিনাই।এমপি সাহেবের নিজের মালিকাধীন চাক্কাটিলা নামক স্হানে ময়লা ফেলার জায়গা দেয়ায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ভবানীগন্জবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুশমত আলম এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে আরো বলেন,
আমরা জুড়ী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশনা অনুসারে আমরা জুড়ীকে পরিষ্কার করতে চাই। এই লক্ষ্য নিয়ে বিগত কিছু দিন পূর্বে আমরা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জুড়ীতে ‘গ্রিন জুড়ী’র একটি কার্যক্রম আমরা উদ্বোধন করেছিলাম নাইট চৌমুহনীতে। তার ধারাবাহিকতায় আমরা পর্যায়ক্রমে আমরা এই কাজটি করে যাচ্ছি। আগামী মাস বা এর পরের মাস থেকে বাংলাদেশে বাৎসরিক হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হয়। এটাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মহোদয় আগে থেকেই ওনার কাছে এই জিনিসটা পরিলক্ষিত হয়েছে বিধায় ২১৩ জন মাননীয় এমপি মহোদয়কে ডেকে নিয়ে তিনি পারসোনালি একটা মিটিং করে বলেছেন যে, যার যার এলাকায় এবং সারা বাংলাদেশব্যাপী যেন আমরা পূর্ববর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কাজ করি।তারই অংশ হিসেবে ক্লিন এবং নিট এন্ড ক্লিন কিভাবে আমাদের এলাকাগুলো রাখতে পারি, কোনো জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, কোনো জায়গায় ময়লা ফেলে ক্যানেলগুলাকে বন্ধ করে পানি উপচে পড়ে আমাদের অযথা বন্যার সৃষ্টি না হয়,এগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করার জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এই কার্যক্রমগুলো শুরু করেছি। আমরা চাই আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে আমাদের এই যে ডেঙ্গুর মতো একটা মারাত্মক প্রাদুর্ভাব, যেগুলোতে ইদানীংকালে মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে, আগামীতে এটা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে আমাদের মাঝে আসতে পারে। তার জন্য আমরা যেন সচেতন হই, এই লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমাদের এই কাজ করা।
আমি এই জুড়ী উপজেলার সন্তান হিসেবে সত্যি সত্যি জুড়ী কে একটা ক্লিন সিটি হিসেবে, ক্লিন শহর হিসেবে গড়তে চাই। আমরা ইতিমধ্যে এই জুড়ীকে প্রত্যেকটা বাড়ির ময়লা ডাস্টবিনে ফেলার জন্য আমরা ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করেছি এবং সেখান থেকে এই ময়লাকে তুলে নিয়ে আবার এক জায়গায় ময়লাগুলো ফেলারও ব্যবস্থা করেছি। সুতরাং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো ল্যাকিংস থাকবে না।
আমরা সকলে মিলে যদি সচেতন হই, মানুষকে বুঝাই, তাহলে আগামী মাসের পরে দেখবেন এই জুড়ী শহরটা একটা অন্যরকম জুড়ী হিসেবে আমাদের সকলের কাছে প্রতীয়মান হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা এই লক্ষ্য নিয়ে সকলে মিলে কাজ করতে চাই। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি। শুধুমাত্র উপজেলা প্রশাসন আর শুধুমাত্র এমপি ইচ্ছা করলেই এই জিনিসগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। জনসাধারণ, সাধারণ মানুষ, সকল পর্যায়ের সকলের সহযোগিতায় যদি আমরা এই জিনিসগুলো বাস্তবায়ন করি, এটা একটা সফলতা আসবে।