শমশেরনগর চা বাগান থেকে বিলীন হচ্ছে ছায়াবৃক্ষ : চায়ের উৎপাদন হ্রাস ও হুমকির মুখে পরিবেশ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় মশক নিধনে এমপির নেতৃত্বে সমন্বিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জুড়ীতে প্রবাসী সমাজসেবক মাহবুব হাসান সাচ্চুর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ওসমানীনগর আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশনের  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ছাতকে ব্যবসার নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র প্রাণনাশের হুমকি : থানায় অভিযোগ কমলগঞ্জের খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেল সংকটে দুর্ভোগ বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল আত্রাইয়ে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা কমলগঞ্জে বছরের প্রথম কালবৈশাখি ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড কমলগঞ্জে মণিপুরি ললিতকলা একাডেমীর পরিচালকের দায়িত্ব পেলেন ইউএনও নাগেশ্বরীতে ইউনিসেফের অর্থায়নে বাল্যবিবাহ বন্ধে সংলাপ ও ইন্টারেক্টিভ সভা

শমশেরনগর চা বাগান থেকে বিলীন হচ্ছে ছায়াবৃক্ষ : চায়ের উৎপাদন হ্রাস ও হুমকির মুখে পরিবেশ

  • মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

Manual4 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগান থেকে বিলীন হচ্ছে বৃহদাকারের শেডট্রি বা ছায়াবৃক্ষ। দীর্ঘ সময় ধরেই একটি মহল চা বাগানের সেকশন থেকে গাছ কেটে পাচার করছে। এতে চায়ের উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে, আবার পরিবেশের জন্যও হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। তবে চা বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে পূজাপার্বনে জ্বালানির জন্য শ্রমিকরা মৃত গাছ কেটে নিচ্ছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শমশেরনগর চা বাগান শ্মশানঘাট সংলগ্ন স্থান থেকে ২টি বৃহদ আকাশমনি গাছ কেটে নেয়া হয়।

Manual2 Ad Code

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শমশেরনগর-পীরেরবাজার সড়ক ধারে শ্মশানঘাট সংলগ্ন শমশেরনগর চা বাগানের সেকশন থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে দু’টি আকাশমনি গাছ কর্তন করা হয়। চা বাগান সর্দার আহাদ মিয়া কয়েকজন চা শ্রমিক দিয়ে গাছ কর্তন করেন। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কর্তনকৃত গাছগুলোকে খ-াংশ করে চা বাগানের ট্রাক্টর যোগে বাগানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। দু’টি গাছই বৃহদ আকৃতির ও জীবিত গাছ। এগুলো চা গাছের ছায়াবৃক্ষ হিসাবে ভূমিকা রাখছে।

Manual5 Ad Code

গাছ কর্তনের বিষয়ে আহাদ মিয়া বলেন, চা বাগান ব্যবস্থাপকের অনুমতি সাপেক্ষে জ্বালানির জন্য গাছগুলো কেটে নেয়া হচ্ছে। এভাবে আরও কিছু গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চা শ্রমিক বলেন, আহাদের মাধ্যমে চা বাগানের শত শত গাছ রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে সেকশনগুলো বৃক্ষশূন্য হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

এদিকে শমশেরনগর এর ফাঁড়ি দেওছড়া, ডবলছড়া, কানিহাটি চা বাগানসহ বিভিন্ন চা বাগানে পুরনো ও বৃহদাকার গাছ চুরি হচ্ছে। সেকশনের পুরনো কড়ই, আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এই গাছগুলো চা গাছের ছায়ার যোগান দেয়। এই গাছগুলো একদিকে চা বাগানে অতিবৃষ্টি ও প্রখর রোদের কবল থেকে চা গাছকে রক্ষা করছে। এজন্য চায়ের টিলাগুলো বৃক্ষরাজিতে ভরপুর থাকে। অন্যদিকে বিশাল চায়ের টিলায় গাছগুলো মাটির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। চা বাগানের শেডট্রিগুলো চায়ের উৎপাদন, মাটির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। তবে গাছ কর্তন করে ফেলায় চায়ের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আবার পরিবেশের জন্য হুমকি হয়েও দেখা দিচ্ছে।

Manual6 Ad Code

পঞ্চায়েত নেতারা জানান, বাগান থেকে গাছগাছালি ও কাঁচা চা পাতা চুরি হচ্ছে। গাছ চুরি হয়ে যাওয়ায় টিলাগুলো বৃক্ষ শুন্য হয়ে পড়ছে। এজন্য চা গাছেও ছায়া থাকবে না। ফলে বাগানের ও শ্রমিকদের বড় ধরণের ক্ষতি হবে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা ম্যানেজমেন্টকেও বলেছি।

এ ব্যাপারে শমশেরনগর চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক এম.বি.সাজ্জাদুর হক গাছ কর্তনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকরা জ্বালানি কাঠের জন্য মরা গাছ কাটছেন। সামনে দুর্গাপূজা আসছে, তাদের জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন থাকায় গাছ কেটে নিচ্ছেন। তবে জীবিত ও বৃহদ সাইজের গাছ কাটা হলে খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, চা বাগান থেকেও গাছ কর্তন করতে হলে বনবিভাগের অনুমতি প্রয়োজন। এবিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!