ছাতক সংবাদদাতা :: মৃত্যু বরণ করলেন ‘আমার ময়না টিয়া, আগন মাসর ধান তুলিয়া করমু তোমায় বিয়া’ গানসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের কন্ঠশিল্পী সিলেটের ছাতকের আলী ইনসান। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আলী ইনসান ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গনেশপুর ছড়ারপার গ্রামের মো. দুদু মিয়ার ছেলে। ওই দুপুর ২টায় ছড়ারপার বালুর মাঠে মরহুম আলী ইনসানের জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, ছাতকের ইতিহাস- ঐতিহ্য নিয়ে আলী ইনসান এর লেখা গান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল, এ গানটি সংস্কৃতিমনা মানুষের মুখে- মুখে উচ্চারিত হতে দেখা যায়। জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী আলী ইনসান ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন তরুণ। ‘আমার ময়না টিয়া” আমাদের ছাতক শহর’, ‘পাইয়া নিধি হারালাম, ঘুমের ঘরে’ ইত্যাদি অনেক জনপ্রিয় গান তাঁর কন্ঠে শ্রুতা প্রিয় হয়েছে। যা মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। তাঁর মৃত্যুতে ছাতকবাসী তথা দেশ একজন গুণী শিল্পীকে হারালো।
তিনি আরও অসংখ্য গান গেয়েছেন । উনার নিজ উপজেলা ছাতক নিয়ে একটা দারুণ গান আছে আমাদের ছাতক শহর’, পাশাপাশি ‘আমার ময়না টিয়া” ‘পাইয়া নিধি হারালাম, ঘুমের ঘরে’ শিরোনামের গানগানগুলোও শ্রোতামহলে সমাদৃত হয়েছে কবেই। এর পর তিনি শ্রোতাদের দিয়ে গেছেন অসংখ্য গান —
দেখাইমু লন্ডনের শহর…
যে রোগে ধইরাছে মোরে…..
তুমি তো আইলানা বন্ধু……
ও বন্ধু নিলেনা খবর……
আমি অবাকও হইলাম……
ভালা নায় স্বভাব……
দিলেনা তোর মন……
এছাড়াও আমার ময়না টিয়া, ভার্সন —১, ২, ৩ সহ অসংখ্য গানের জনক আলী ইনসান।
তাঁর গানগুলোতে সাধারণত দেখা গেছে গ্রামের প্রতিচ্ছবি, প্রেম-বিচ্ছেদ, বিহঙ্গম অনুভূতি, শ্রেণি-বিরোধ বা সংগ্রামের আভাস। তাঁর গান-শৈলীর একটা বড়ো বৈশিষ্ট্য হলো শব্দচয়নে গ্রামীণ সরলতা বজায় রাখা। ছিলেন নিরহংকারী ও সঙ্গীতপ্রেমী। মেধা-মননে সর্বদা থাকতো সঙ্গীতের চাষ। সিলেটি ভাষার উপচারে এবং স্বতন্ত্র আঞ্চলিক সংগীত পরিবেশে তিনি নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছিলেন।
একই উপজেলার ক্ষণজন্মা আরেকটি নাম পাগল হাসান। বছর ঘুরতেই দু-জনেই হলেন পরকালের বাসিন্দা এবং অল্পবয়সেই। গগনবিদারী হাহাকার ছাতক তথা সিলেটের সঙ্গীতাঙ্গনে।
আলী ইনসান তিন মেয়ে এবং স্ত্রী রেখে সোমবার (২৭ অক্টোবর ) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর (প্রায়)। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।