মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ তিন বছর ধরে হয়রানি, হামলা, মামলা ও সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম ও তার পরিবার।
৮ জুন সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর স্থানীয় ব্যক্তি রুমন মিয়া তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রুমন মিয়া ও তার সহযোগী আফজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
ফাতেমা বেগম বলেন, পরবর্তীতে তিনি হাবিব মিয়াকে বিয়ে করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে, তার স্বামী, ভাই মেরাজ মিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ফাতেমা বেগমকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও অভিযুক্তদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ফাতেমা বেগম দাবি করেন, রুমন মিয়া কখনও আওয়ামী লীগ, আবার কখনও বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলায় জড়িয়ে আপসের নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা কমলগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হলেও তার যথাযথ তদন্ত ও আইনগত অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করেছেন। বর্তমানে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলেও অভিযোগ তোলেন ফাতেমা বেগম।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।#