জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার ::
মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান বলেছেন, দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সুরক্ষার দায়িত্ব বিএনপি নেবে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে হলে বিএনপিই দেবে।”
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।
নাসের রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রচারের মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বুঝিয়ে দেওয়া—জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার আশঙ্কা ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, “আপনারা এক সেকেন্ডও ভাববেন না যে জামায়াতে ইসলামির নামে কেউ ক্ষমতায় আসবে। এমন হলে দেশে কেয়ামতের মতো পরিস্থিতি হবে। শেখ হাসিনার আমলেও এত খারাপ দিন আসেনি।”
তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ‘গোপন উদ্দেশ্য’ তিন দিন আগে তাদের চট্টগ্রামের এক নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
“বুড়া মানুষ, কি বলছে বুঝে বলছে কি না—জানি না। কিন্তু তার মুখ দিয়ে আসলো তাদের দলের মনের বাসনাটা ফস করে বের হয়ে গেছে,”—বলেন নাসের রহমান।
এই বক্তব্যে জামায়াত নেতাদের মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। “তিন দিন পর তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ভুল করলে পরদিন নোটিশ হওয়ার কথা। এটা শুধু লোক দেখানো। অথচ তিনি তাদের সিনিয়র নেতা, এমপি প্রার্থী,”—যোগ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গত সাড়ে পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা এমন দায়িত্বহীন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, “তারা আমাদের মামলা দিয়েছে, ঘুম খুন করেছে, তাড়িয়েছে, মারধর করেছে—কিন্তু এরকম বক্তব্য কখনো শোনা যায়নি।” তিনি বলেন , চট্টগ্রাম বন্দরে জামায়াতের এ নেতা ‘বড় চাঁদাবাজ’ হিসেবে পরিচিত।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ঝুঁকিতে পড়বে—এমন ধারণা ভেঙে দিতে চান বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “ক্ষমতা ছাড়ার আগে ওবায়দুল কাদের বলেছেন পাঁচ লাখ আওয়ামী লীগ কর্মী মারা যাবে। বাস্তবে কী হয়েছে? একজন নেতাও মারা যায়নি, গ্রামে-গঞ্জে কেউ পালায়ওনি।”
নাসের রহমান বলেন, একসময় মাত্র ৮ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত এখন ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া তাদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। অন্তত তাঁর প্রতি সম্মান করে তিনটি আসনে প্রার্থী না দেওয়ার কথা বলতে পারত। উল্টো বগুড়ায় মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে।” তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা যেন বিভ্রান্ত না হয় এবং বিএনপিকে মূল্যায়ন করে।
নাসের রহমান বলেন, বিএনপি কখনো হিন্দুদের শত্রু নয়। তিনি বলেন, “হিন্দু ভাই বোনেরাও আমাদের ভোট দেন। আমি প্রতি বছরই দুর্গাপূজায় যাই। বড় বড় মণ্ডপে যাই। কখনো জামায়াতকে মণ্ডপে দেখিনি। এবার নাকি গেছে—হিন্দু সম্প্রদায় তাদের ভোট দেবে, এটা আমার সাধারণ জ্ঞানে বিশ্বাস হয় না।”
উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন— মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমেদ, মোস্তফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ। উঠান বৈঠকটি এক পর্যায়ে জনসমাবেশ রুপ নেয়। এ ছাড়া ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।#